white logo top guideline

কেন পেশা হিসেবে শিল্পোদ্যোগ বেছে নিবেন?

আধুনিক বিশ্বে অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় ব্যবসায় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও তা সফলতার সাথে পরিচালনার ক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে শিল্পোদ্যোগ বিষয় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। জ্ঞানের স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে শিল্পোদ্যোগ শিক্ষার দ্রুত প্রসার লাভ আধুনিক ব্যবস্থাপনা শিক্ষার একটি নতুন বৈশিষ্ট্য। 

শিল্পোদ্যোগ শিক্ষা বলতে জ্ঞানভাণ্ডারের এ শাখাকেই বুঝায়, যা পাঠ করলে একজন শিক্ষার্থীর সুপ্তগুণাবলি বিকাশের পথ প্রশস্ত ও সম্প্রসারিত হয়, আত্মবিশ্বাস ও বিশেষ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, উদ্ভাবী সৃজনশীল ও চ্যালেঞ্জিং কাজে উৎসাহিত হয় এবং নতুন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপনে অনুপ্রাণিত ও তা সফলতার সাথে পরিচালনার ক্ষমতা অর্জন করে। এ শিক্ষা একজন ব্যক্তির সামাজিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি করে এবং শিল্পোদ্যোগ পেশায় উদ্বুদ্ধ করে। নিম্নে পেশা হিসেবে শিল্পোদ্যোগ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বা কেন পেশা হিসেবে শিল্পোদ্যোগ বেছে নিবেন? তা আলোচনা করা হলঃ

কেন পেশা হিসেবে শিল্পোদ্যোগ বেছে নিবেন?

পেশা বা বৃত্তি হিসেবে শিল্পোদ্যোগ বেছে নিওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। আজ আমরা পেশা বা বৃত্তি হিসেবে শিল্পোদ্যোগের এমই ৭টি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নিচে আলোচনা করব:

১। শিল্পোদ্যোগের ধারণা লাভ

প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন ও কর্মীদের নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করার আগ্রহ সৃষ্টি ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে উৎসাহিত হওয়ার জন্য শিল্পোদ্যোগ শিক্ষার প্রয়োজন। শিল্পোদ্যোগ শিক্ষার মাধ্যমে ব্যবসায়ের ধারণা, প্রকল্প তৈরি, প্রকল্প নির্বাচন, ব্যবসায় পরিকল্পনা ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। সুতরাং যদি একজন সফল শিল্পোদ্যোক্তা হতে চান তবে সবার আগে শিল্পোদ্যােগের শিক্ষা লাভ খুবই জরুরি।

২। উদ্ভাবনী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে উৎসাহ

শিল্পোদ্যোগের জ্ঞান একজন তরুণ ব্যক্তিকে উদ্ভাবনী, সৃজনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে উৎসাহিত করে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জন, নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করার আগ্রহ সৃষ্টি ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে অনুপ্রাণিত হওয়ার জন্য বিরোদ্যোগ শিক্ষা খুবই জরুরি

৩। দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি

শিল্পোদ্যোগের শিক্ষা গ্রহণ করলে একজন ব্যক্তির সুপ্ত গুণাবলি বিকাশের পথ প্রশস্ত ও সম্প্রসারিত হয়, আত্মবিশ্বাস ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের পথ প্রশস্ত হয় এবং সে কর্তব্য ও দায়িত্বের প্রতি যত্নশীল হয়। এ শিক্ষা একজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন উৎপাদনমুখী ও সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করতে সহায়তা করে।

৪। আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ

শিক্ষিত বেকার জনগোষ্ঠীকে আত্মকর্মসংস্থানমূলক পেশায় উদ্বুদ্ধকরণে শিল্পোদ্যোগ শিক্ষার গুরুত্ব অনস্বীকার্য। শিল্পোদ্যোগ কোর্স একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিকে বেতনভিত্তিক চাকরির উপর নির্ভরশীলতা কমাতে এ কোর্সের বিকল্প নেই। এ কোর্স একজন শিক্ষার্থীকে চাকরির বিকল্প হিসেবে আত্মকর্মসংস্থান বা শিল্পোদ্যোগ পেশা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে। বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান তীব্র বেকার সমস্যার প্রেক্ষাপটে কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে আত্মকর্মসংস্থান ও ব্যবসা পেশায় আগ্রহ সৃষ্টি কেবল শিল্পোদ্যোগ শিক্ষাই দিতে পারে। পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের যেসব ছাত্রছাত্রী শিল্পোদ্যোগ কোর্স পাঠ করেছে, অন্যান্য কোর্সের তুলনায় অধিক হারে তারা ব্যবসায়কে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে।

৫। সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা সৃষ্টি

শিল্পোদ্যোগ শিক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি একদিকে যেমন আত্মকর্মসংস্থানের উদ্যোগ গ্রহণে যোগ্যতা অর্জন করতে পারে, তেমনি অন্যদিকে সাফল্য অর্জনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়।

৬। শিল্পোদ্যোক্তা শ্রেণি সৃষ্টি

বাংলাদেশ শিল্পে অনগ্রসরতার প্রধান কারণ প্রকৃত শিল্পোদ্যোক্তার অভাব। শিল্পোদ্যোক্তা শ্রেণির সম্ভাব্যতা সৃষ্টি একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা শিল্পায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন শিল্পোদ্যোক্তা জন্মগতভাবেই শিল্পোদ্যোক্তা- বর্তমানে এ ধারণা পরিবর্তিত হয়েছে। বিখ্যাত মনস্তত্ত্ববিদ ম্যাকলিল্যান্ড গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে, যাদের মধ্যে কৃতিত্বার্জনের আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, প্রশিক্ষণ পেলে তারা শিল্পোদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে। দেশের শিল্পায়নের গতিকে ত্বরান্বিত করতে নতুন শিল্পোদ্যোক্তা শ্রেণি সৃষ্টি করতে শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে শিল্পোদ্যোগ কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। বাংলাদেশেও বর্তমানে শিল্পোদ্যোগ শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করে কারিগরি ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠ্যক্রমে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

৭। আত্মবিশ্বাস ও প্রতিভার বিকাশ

কারিগরি পর্যায়ে শিল্পোদ্যোগ কোর্সের অন্তর্ভুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি ও নিজের প্রতিভা বিকাশের পথ উন্মুক্ত করা। যারা নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কারণে পড়াশুনা করতে পারে না তারা যেন জীবিকার্জনের পথ হিসেবে ব্যবসায়কে গ্রহণ করে। তা ছাড়া আত্মকর্মসংস্থান বা ব্যবসায় যে একটি সম্মানজনক পেশা সে সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করাও শিল্পোদ্যোগ কোর্সের উদ্দেশ্য।

পরিশেষে উপরোক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায় যে, দেশের জনগণের মেধা, উদ্ভাবনী শক্তি ও উদ্যমের উন্নয়নের বিকাশ ঘটিয়ে শিল্প ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপনের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুবন্দোবস্তকরণে শিল্পোদ্যোগ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

আরও পড়ুন>>>

Related Guideline

মেগার কি কত প্রকার মেগারের গঠন ও কার্যপ্রণালী

মেগার কি? কত প্রকার? মেগারের গঠন ও কার্যপ্রণালী

আমরা যে সকল বিষয়ে আলোচনা করব তা হল:-  মেগার কি? কাকে বলে? মেগার কত প্রকার ও কি কি? মেগারের গঠন ও কার্যপ্রণালী। মেগারের ব্যবহার। মেগার ভালো না খারাপ তা কিভাবে পরিক্ষা করা হয়? কিভাবে মেগার দ্বারা উচ্চ রেজিস্ট্যান্স পরিমাপ করতে হয়? ইত্যাদি বিষয়।

Full Guideline »

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Enable Notifications    OK No thanks